স্টাফ রিপোর্টার
জন্মদাতা পিতা গর্ভধারিণী মা একের পর এক নির্যাতন সহ্য করে চলেছেন। দীর্ঘ দুই বছর যাবত অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আর এরকমই বর্ণনা দিচ্ছেন ষাটোর্ধ বয়সী মা।
মধ্যযুগীয় কায়দায় বাবা মায়ের উপর করা হচ্ছে নির্যাতন হাতে,পায়েও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লীলা ফুলা আগাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার আলগি দুর্গাপুর গ্রামে।
ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বৃদ্ধ মুকবুল আহাম্মদ। এসময় পাশে থাকা স্ত্রী তাহেরা বেগম(৬৩) জানান, আমার স্বামী একজন আবসরপ্রাপ্ত লোক নিজে চলতে কষ্ট হচ্ছে। ছয় ছেলে মেয়ের মধ্যে আতিকুর রহমান সবার বড় বিয়ে দেওয়া হয়েছে সবাইকে। জমি ভাগ করে দেওয়ার জন্য ও মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা ধার নিয়ে টাকা চাইলেই নির্যাতন শুরু হয় আমাদের উপরে। গত ২৫ জুন আমি এবং আমার স্বামী মুকবুল আহমদ (৭০) ছেলে আতিকুর রহমান এর কাছে মেয়েদে পাওনা টাকা চাইলে আমাদের উপর তার স্ত্রী সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে মা তাহেরা বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বড় ছেলে আতিকুর রহমানকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। কয়েকমাস পূর্বে ছেলের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া বৃদ্ধ মুকবুল আহাম্মদ পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
তাহেরা বেগম জানান, জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে ছেলে আতিকুর রহমান আরো বেপোরোয়া আচরণ শুরু করেছে। আমাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তার হুমকি ধমকিতে ভীত হয়ে আমরা বর্তমানে আমাদের মেয়েদের বাড়ীতে থাকছি। গত বৃহষ্পতিবার পূর্বের হামলার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমার স্বামীকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই।
মুকবুল আহাম্মদ জানান, পিতা হয়ে সন্তানের অত্যাচারের অতিষ্ঠ আমি ও আমার স্ত্রী। বর্তমানে আমরা আতঙ্কে। বাধ্য হয়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এই কুপুত্রের বিচার চাই।
এব্যাপারে আতিকুর রহমানের মুঠো ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তার মুঠো ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।