নিজস্ব প্রতিবেদক : ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে না যাওয়ায় দুই জনকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে আওয়ামীলীগ কর্মীরা এমন অভিযোগ তুলে হাসপাতালের বিছানায় আর্তনাদ করছে ভুক্তভোগী আফসার আলী সরদার (৬০) ও তার ভাই সাহেব আলী (৪২)। আফসার আলী মোহনপুর উপজেলার তাঁতীপাড়া গ্রামের মৃত: তাহের আলীর ছেলে।

ভোটেরদিন (৭ জানুয়ারী) বিকেলে নিজ গ্রামে এন্তাজের চা স্টলে প্রবেশের পর চা এর অর্ডার করলেন। হঠাৎ গ্রামের ৪-৫ জন এসে আফসারকে জিজ্ঞেস করলেন তুই ভোট দিতে যাসনি কেন? উত্তরে আফসার জানায়, আমার ভাল লাগেনি তাই যায়নি! তার এমন উত্তরে ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার পাইপ ও বাঁশে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটানো শুরু করেন ঐ এলাকার আওয়ামীলীগ কর্মী দুলাল, জালাল, আখিরুল ও শামীম।
ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসীদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভোটের দিন বিকালে তাঁতীপাড়া গ্রামে আফসার আলী এন্তাজের চা দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন এমন সময় স্থানীয় আওয়ামীকর্মী মৃত আলতাবের ছেলে দুলালের নেতৃত্বে সুলতানের ছেলে জালাল, শামীম ও গাফ্ফারের ছেলে আখিরুল আফসারকে জিজ্ঞেস করে, সে ভোট দিতে গেছেন কি না? এরপর তাদের উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুলালের নেতৃত্বে বাকিরা আফসারের উপর হামলা করে। এতে আফসার গুরুত্বর আহত হয়ে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে এবং রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আফসারকে চা দোকানীর বাড়িতে তুলে দরজা লাগিয়ে দিলে তারা সেই বাড়ির দরজা খুলতে ভাঙ্গার চেষ্টা চালায়। এরপর স্কুল মাঠে চা দোকানদার শাফিকুলের দোকানে আফসারের ছোট ভাই সাহেব আলীকে পেয়ে তাকেও একইভাবে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয়রা গুরুত্বর অবস্থায় দুই ভাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তারা দু’ভাই বর্তমানে ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। স্থানীয়রা আরও জানান, দুলাল ও তার সঙ্গীরা সবাই এমপি আসাদের লোকজন।
পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখেগেছে, আফসারের ডান হাত ও ডান পাঁ ভেঙেছে এবং সাহেব আলীর বাম হাত ও ডান হাতের আঙ্গুল ভেঙেছে । ভুক্তভোগীরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবী, বাঁকী ভাইদেরও মারধরের জন্য খুঁজছে দুলাল বাহিনীরা। ভাই গুলো পলাতক রয়েছেন। তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে তারা (ভুক্তভোগীরা) জামায়াত ইসলাম এবং বিএনপি সমর্থক।
বিষয়টি নিয়ে নবনির্বাচিত এমপি আসাদুজ্জামান আসাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই ধরনের কাজ যদি কেউ করে থাকে, তাহলে তার দায়ী তাকেই নিতে হবে। আমি কাউকে এই ধরনের নির্দেশ কোন দিন দিই নি, আগামীতেও দিবনা। ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিলে এব্যাপারে আমি সহযোগিতা করবো।
পরে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হরিদাস মন্ডলের সাথে কথা করলে তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনার ব্যাপারে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। বিষয়টি আমার জানা নাই। আপনার মুখেই প্রথম শুনলাম। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।