মেহেদী হাছান, ফরিদগঞ্জ:
ফরিদগঞ্জে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুর করা হয়েছে বসতঘর, আসবাবপত্র ও মোটরসাইকেল। আতংকে ছুটোছুটি করেন আগত মেহমানরা। পন্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান। ওই সময় গৃহবধুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় এলাকার মিস্টার ও হেলাল এর নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবী করেছেন। তাদের আটক করেছে থানা পুলিশ। উপজেলার ফরিদগঞ্জ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের হর্ণি দূর্গাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার বিকালে।

সরজমিন জানা গেছে, ‘মৃধ্যা প্রবাসী সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামে সংগঠনের ব্যানারে প্রবাসীরা ইফতার ও খাবার সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করে। বিতরণ পূর্ব আলোচনা চলাকালে মিস্টার (৫০) ও হেলাল (৩৮) ৮-১০ জন যুবক নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যায়। মামুন মৃধা (৫০) নামে আয়োজকদের একজন তাদের বসতে বলেন। মিস্টার ও হেলাল চিৎকার দিয়ে বলেন, ইফতার সামগ্রী বিতরণের নামে এখানে জঙ্গীদের কোনো অনুষ্ঠান চলবে না। আয়োজন কারীরা এতে হতভম্ব হয়ে পড়েন। তারা তাদের কাছে জানতে চান কে, বা কারা জঙ্গী। তাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মিস্টার ও হেলাল আয়োজন কারীদের হুমকি ধমকি দিয়ে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে মিস্টার ও হেলালের নেতৃত্বে ১০-১২ জন অনুষ্ঠানস্থলে ডাক চিৎকার ও হাঙ্গামা শুরু করে। এতে, লোকজন আতংকে ছুটোছুটি শুরু করেন। পন্ড হয়ে যায় মানবতার কল্যাণে আয়োজিত অনুষ্ঠান। হামলা কারীরা আয়োজকদের বসত ঘরে গিয়ে ভাংচুর করে দরজা জানালা ও আসবাবপত্র। তারা, প্রবাস ফেরত আসিফ এর একটি মোটর সাইকেল (নং ঢাকা মেট্রো ল-৩০-৯৮২২) ভাংচুর করেছে। ওই সময় আতংকিত লোকজন দিগি¦দিক ছুটোছুটি করেন ও অন্তত পাঁচজন আহত হন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাড়ির ভেতরে গিয়ে হামলার সময় বাধা দিতে গেলে এস.এস. পাইপের আঘাতে আহত হন গৃহবধু লিলু বেগম (৫০)।

আয়োজন কারীদের মধ্যে সাইফুল মৃধা (৩৮), আসিফ মৃধা (৩৫), রাজিব মৃধা (৩৬) ও রণি মৃধা বলেন, আমাদের অধিকাংশ জন প্রবাসী, অন্যরা প্রবাস ফেরত। কয়েক বছর যাবত আমরা গরীব মানুষদের আর্থিক, ঘর মেরামত, খাবার, ইফতার সামগ্রীসহ নানান সমস্যায় সহযোগিত করে আসছি। এ বছর, আমরা অনেকে বাড়ি থাকার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫০ জনের মধ্যে ইফতার সামগ্রীসহ কয়েক দিনের খাবার বিতরণের আয়োজন করি। আয়োজন কারীদের পরিচয় পর্ব ও আলোচনা চলাকালে মিস্টার ও হেলাল অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে আমাদের বলে এখানে জঙ্গীদের কোনো অনুষ্ঠান চলবে না। আমরা তাদের সম্মান দিয়ে চেয়ারে বসতে বলি। তারা হিংসাত্মক কারণে ও অন্যায়ভাবে আমাদের অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দিয়েছে। আমরা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে। হামলা কারীরা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করেছে বলে আয়োজকরা দাবী করেছেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে মসজিদের ইমাম আবদুল বারি, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মামুন মৃধা, জসিম মৃধা, বাচ্চু মৃধা, ফিরোজ মৃধা, আবদুল বারেকসহ আরও অনেকে ওই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা আওয়ামী লীগের কোন পদে আছে, আমরা জানি না। কিন্তু এমন ঘটনা দুঃখজনক। গতকাল বিকালে গিয়ে দেখা যায় ইফতার ও খাবার সামগ্রীগুলো ইমামের কক্ষে পড়ে আছে।

থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেছেন, ইফতার ও খাবার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে হাঙ্গামার খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। মূল হোতা মিস্টার ও হেলালকে রাতেই আটক ও লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলা রুজু (নং ০৯, তারিখ: ০৯-০৩-২০২৪ খ্রিঃ) করেছি। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সকলকে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপার নির্দেশ দিয়েছেন।