মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল রাজশাহী ঃ

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা!
যাযাবর শিল্পী ও কবি ভুপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গানকে বাস্তবে রুপ দিতে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ” গ্রাম হবে শহর” বার্তাকে সামনে রেখে মোহনপুর উপজেলার মানবিক ইউএনও সাবিহা ফাতেমাতুজ্- জোহ্ রা প্রসুতি মাসহ গ্রামীণ জনপদের জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যেগ তিন চাকার গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্স সেবা উপজেলাবাসিকে এক সুখকর বার্তা দিতে যাচ্ছে।

গ্রামের মানুষের সেবা পাওয়ার নানা বাধার মধ্যে অন্যতম বড় বাধা অপ্রশস্ত রাস্তা।
পায়ে চলার পথকে সামান্য বাড়িয়ে-ছাড়িয়ে রাস্তা হিসেবে মেনে নেওয়ায় সবচেয়ে বড় অসুবিধায় পড়েন এসব গ্রামেরই মানুষ যখন তাদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। বাস্তবিক, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে এখনও এমন কিছু রাস্তা-ঘাট আছে যেগুলো সরু হওয়ার কারণে অসুস্থ রোগীকে বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেওয়াটা কষ্টকর। সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিতে না পারায় অনেক প্রসূতির মৃত্যুও হয়। এই বিষয়টি অনুধাবন করে তৃণমূলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অভাবনীয় মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা ফাতেমাতুজ্- জোহ্ রা। তিনি প্রচলিত সুবিধাকেই ভিন্নভাবে ব্যবহার করে বানিয়ে নিয়েছেন সিএনজি চালিত তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্স। গ্রামের সরুপথে চলতে পারবে বলে এই অ্যাম্বুলেন্সের নাম রেখেছেন ‘গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্স’।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রচলিত চার চাকার অ্যাম্বুলেন্সের প্রায় সমান সুবিধা দিয়ে তৈরি হয়েছে তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রোগীকে শুইয়ে আনার জন্য বেড, রোগীর সঙ্গে আগতদের বসার জায়গা, অক্সিজেন সুবিধা, সাইরেন সব ব্যবস্থাই আছে। গ্রামের সরুপথে রোগী বহনের জন্য ছুটছেও এই বিশেষ যানটি। জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে। গ্রামীণ সরু রাস্তায় চলার উপযোগী করেই তৈরি করে আনা হয়েছে এগুলো।

এ উপলক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৯ আগষ্ট বুধবার বিকাল চার টায় গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ অনুষ্ঠানে ইউএনও সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহ্ রা সভাপতিত্বে
প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড.আব্দুস সালাম,সহকারী কমিশনার ভূমি মিথিলা দাস, অধ্যক্ষ মফিজ উদ্দিন কবিরাজ, ভাইস চেয়ারম্যান সানজিদা রহমান রিক্তা, যুব কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর মোঃ মফিজুল ইসলাম মুন্নাসহ সরকারি কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা ফাতেমাতুজ্- জোহ্ রা জানান, ‘কয়েকমাস আগে যোগদান করেছি মোহনপুর উপজেলার ইউএনও হিসেবে। মোহনপুর উপজেলা হিসেবে যতটা উন্নত হবে কল্পনা করেছিলাম, বাস্তবে সেরকম দেখিনি। বিশেষ করে ইউনিয়নগুলো থেকে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে পড়া মনে হয়েছে। রাস্তাগুলোও সরু। তখনই চিন্তা হচ্ছিল এসব জায়গা থেকে মানুষ কীভাবে অসুস্থ রোগীকে বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেবে। এরকম একটা সমস্যা থেকেই মাথায় ভাবনা কাজ করছিল কীভাবে আরেকটু সহজভাবে এরকম দূরবর্তী জায়গা থেকে রোগীদের, বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের জন্য চিকিৎসা প্রাপ্তি আরও সহজ করা যায়। এজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া।

তিনি আরও জানান, ‘চিকিৎসা সেবা সহজ করার জন্য সিএনজি ইঞ্জিনের সঙ্গে কাস্টমাইজড বডি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বানানোর জন্য উত্তরা মটরসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এমন তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্স দিতে রাজি হয়।

এ কাজটি বাস্তবায়নে রাজশাহী -৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ স্যারের অনুপ্রেরণা রয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে আমরা উপজেলা পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করি।

উপজেলার যেকোনও ইউনিয়ন থেকে ফোন করলেই এই গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্সের সার্ভিস নিতে পারবেন যেকোনও গ্রামবাসী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিতে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে স্বল্প টাকা খরচ পড়বে।